এলএনজি টার্মিনালের একটি বয়লার সচল জাতীয় গ্রিডে বেড়েছে গ্যাস সরবরাহ

মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালের একটি বয়লার সচল হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে।

এর প্রভাবে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ বেড়েছে। কয়েকদিনের তীব্র সংকটের পর স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে শিল্প-কারখানা, সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, দুই-তিনদিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, মেরামত শেষে গত বুধবার রাতে ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের একটি বয়লার চালু করা হয়। বর্তমানে এ টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় সাড়ে ১১ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। মহেশখালীর অন্য ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকেও প্রতিদিন প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রামে গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার চট্টগ্রাম নগরীতে প্রায় ১৮ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও গতকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ কোটি ঘনফুটে। বড় কয়েকটি গ্রাহকের সরবরাহ সীমিত রাখায় আবাসিক, শিল্প ও সিএনজি খাতে গ্যাসের চাপ দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।

কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস) প্রকৌশলী মো. তাজউদ্দিন ঢালী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পাইপলাইনের চাপ গত মঙ্গলবার ৭০ পিএসআই (পাউন্ড পার স্কয়ার ইঞ্চি) পর্যন্ত নেমে গেলেও বুধবার তা ১০০ পিএসআই এবং বৃহস্পতিবার বিকাল নাগাদ ১৬০ পিএসআইতে পৌঁছেছে। ফলে অধিকাংশ গ্রাহক এখন পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শুক্রবার বা শনিবারের মধ্যে সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।’

মহেশখালীতে গত ২১ জুলাই মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর ফলে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকরা তীব্র সংকটে পড়েন। চট্টগ্রামে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট হলেও গত কয়েকদিনে সরবরাহ নেমে এসেছিল ১৯ থেকে ২০ কোটি ঘনফুটে। এতে শিল্প উৎপাদন ও স্বাভাবিক জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। বর্তমানে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো), চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি ও শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হলেও সংকটের কারণে কয়েকটি বেসরকারি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ এখনো বন্ধ রয়েছে।

কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটির কারণে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছিল। তবে পেট্রোবাংলাসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হচ্ছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।’

এদিকে রাজধানীর কুড়িল, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায়ও গ্যাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে গ্যাসের অভাবে অনেক পরিবার এলপিজি ও ইনডাকশন চুলার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লেও গতকাল সকাল থেকে স্বাভাবিকভাবে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে।

সচিবালয়ে গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ দিয়ে আবার গ্যাস সঞ্চালন শুরু হয়েছে। পাইপলাইনের চাপ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে মিনিমাম দুই-তিনদিন লাগবে। এটা (এফএসআরইউ) বন্ধ হওয়ার আগে যেমন ছিল, তেমনই হবে।’

আরও